প্রাপ্ত
বা সম্মানিত বা পেশাগত কারণে উপাধি যেমন এসেছে দিল্লির সুলতান, নবাব বা বাদশাহদের
কাছ থেকে, তেমনি রাজাদের কাছ থেকে আবার অধুনা বাঙলার বাইরের অন্য কোনো রাজ্য থেকে। পদ থেকে
পদবি প্রাপ্তির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে কোচবিহারের রাজবংশ থেকে। কোচবিহারের এমন
কিছু স্বতন্ত্র পদবি আছে যা রাজপরিবারের কাছ থেকে প্রাপ্ত এবং তা অবিভক্ত বাঙলার অন্যত্র
কোথাও পরযায়ী পেশাগত স্থানান্তরের কারণে
কচিৎ-কদাচিৎ পাওয়া যায়। উদাহারণস্বরূপ কিছু পদবি যেমন ঈশোর। কুচবিহারের রাজবংশের
কোনো দুহিতার রাজবংশ ছাড়া অনত্র কোনো বংশে বিবাহ হতো, তাঁর গর্ভজাত কুচবিহারের
রাজপরিবারের সেই দৌহিত্র সন্তানেরা ঈশোর পদবিতে অলংকৃত হতেন। কার্জি উপাধি দেওয়া
হত কুচবিহারের রাজা নয়, এমন কোনো বহিরাগত পরিবারে, বিবাহের পর সেই রাজশ্বশুরকে। এই
উপাধি বংশপরম্পরায় এই উপাধি গৃহিত ও সংরক্ষিত হয়েছে। খাজনা আদায় করা বা জমি
মাপজোকের সাথে সম্পর্কযুক্ত পেশায় নিয়োজিত
গোমস্তাদের কারকুন উপাধি দেওয়া হত। ভিনরাজ্য থেকে আগত মুসলমান রাজাদের দেওয়া
মল্লিক উপাধিধারীরা, যারা কুচবিহারের রাজাদের অধীনে কাজ করতেন তাদের পুত্র
পৌত্রেরা হতেন গাবুর। রাজকীয় ডাকবিভাগে কর্মরত কর্মচারীদের ডাকুয়া উপাধি দেওয়া হত।
রাজবংশের পুরোহিতদের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হত দেউড়ি পদবি। গ্রামের প্রধান বা
মোড়লরা পেতেন ঠাকুরিয়া উপাধি। এসব প্রাপ্ত উপাধি থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া
যেতে পারে যে কুচবিহারের রাজাদের দেওয়া
বহু পদবি আছে যেগুলি পেশাগত কাজে সম্পর্কিত এবং এর অধিকাংশ উপাধি প্রাপ্ত হয়েছে
রাজাদের ব্যক্তিগত কাজ থেকে। রাজাদের মাথায় ছত্রধারীদের দেওয়া হতো ছত্রধারী বা
ছত্রধরা। রাজাদের প্রাত্যহিক ক্রিয়াদির পর শৌচকার্যে ঝাড়ি দিয়ে যারা জল ঢালতেন
তাঁরা হলেন ঝাড়িধরা। যারা পাখায় বাতাস করতেন, তাঁরা হলেন পাখাধরা। রাজাদের
ভ্রমণকালে যারা রাজাদের পোশাকআশাকের দেখাশোনা করতেন তাঁরা হলেন পোঁটলাধরা। রাজাদের
শয়নকক্ষে যারা বিছানার বন্দোবস্ত করতেন
তাঁরা হলেন বোখনাধরা। রাজাদের শিকারে যারা রাজাদের সহায়তা করতেন এবং শিকারে দক্ষতা
অর্জন করতেন তাঁরা হতেন পেলান। রাজার রাজদণ্ড ও পাগড়িবহণকারীরা পেতেন সোতাপাগধরা
উপাধি। পাগড়ির বিকৃতি হচ্ছে পাগ শব্দ, যেমন পেধা বা দণ্ড ছিল লাঠিসোটার মূল শব্দ। রাজাদের
মনোরঞ্জনের জন্য পেশাদার গল্পকারিদের প্রাপ্ত উপাধি হলো গোপ্পি। ত্রিপুরার
রাজবাড়ীর স্বাতন্ত্র্য ও সেই রাজবংশে
সীমাবদ্ধ হলো মানিক্য উপাধি।
No comments:
Post a Comment